প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানোর ৫টি কার্যকর উপায়

শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানোর ৫টি কার্যকর উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার একটি উদ্বেগজনক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনলাইন ক্লাস, গেমস ও বিনোদনের কারণে অনেক শিশুই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটাচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই আসক্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সবসময় পজিটিভ থাকুন
আমরা অনেকসময় শিশুদের ডিভাইস নিয়ে প্রলোভন দেখাই। কোনো ভালো কাজের উপহারস্বরূপ তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় মোবাইল ব্যবহার করতে দেই। আবার, বিপরীতটাও ঘটে। শাস্তিস্বরূপ তাদের কাছ থেকে ডিভাইস কেড়ে নেয়া হয়। অভিভাবকের এমন আচরণ শিশুদের মনকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। তারা ভাবা শুরু করে যে, অন্য যে কোনো খেলার চেয়ে ডিজিটাল ডিভাইস বেশি আনন্দের তাই বড়রা খুশি হলে মোবাইল ব্যবহার করতে দিচ্ছে। কিন্তু আপনার উচিত এ বিষয়টিকে একদম সাধারণ একটিভিটির কাতারে নিয়ে আসা। শিশুদের মোবাইলের পরিমিত ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করুন।
১. নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ:
শিশুর জন্য প্রতিদিন মোবাইল ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিতে হবে। কারণ শিশুরা যদি হঠাৎ কোনো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয় তখন তারা অবাধ্য আচরণ করে। তাই নিষেধ নয়,বরং তারা যাতে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনে সে ব্যাপারে নজর দিন।
২. বিকল্প কার্যক্রমে উৎসাহ:
খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা বা সৃজনশীল কাজে শিশুদের যুক্ত করলে তারা স্বাভাবিকভাবেই মোবাইল থেকে দূরে থাকবে।
৩. পরিবারে সময় কাটানো:
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা বা একসাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিশুদের মানসিকভাবে পরিপূর্ণতা দেয় এবং মোবাইলের প্রতি নির্ভরতা কমায়।
৪. ঘুমের আগে মোবাইল নিষিদ্ধ:
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এতে শিশুর ঘুম ভালো হয় এবং অভ্যাসও নিয়ন্ত্রিত থাকে।
আপনি নিজেই কি মোবাইল আসক্ত?
৫. উদাহরণ স্থাপন:
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বড়দের কোনো আচরণ বারবার ঘটতে দেখলে তা তারা রপ্ত করার চেষ্টা করে। আপনার সন্তান যদি দেখে আপনি নিজেই সারাক্ষণ মোবাইলে কথা বলছেন কিংবা কাজ করছেন তখন তারাও আপনার নিষেধকে আমলে নেবে না। তাই এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো আপনার নিজের স্ক্রিন টাইমের ওপর নজর দেয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধৈর্য ও সচেতনতার মাধ্যমে শিশুর মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা যেতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ পাবলিক পোস্ট নিউজ