রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট: পরকীয়ার সম্পর্ক থেকে সোহেল-স্বপ্নার বিয়ে, দরজা ভাঙার শব্দে ছিটকিনি দেন স্বপ্না
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের জের ধরেই স্বপ্নার বিয়ে হয়েছিল তার সঙ্গে।
রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া ওঠেন সোহেল। তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে এক কক্ষে থাকতেন তিনি। একই ফ্ল্যাটের বাকি দুটি কক্ষে বসবাস করতেন আরেক দম্পতি মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার। রান্নাঘর ছিল সবার জন্য যৌথভাবে ব্যবহৃত।
চার্জশিট অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে অন্য ভাড়াটিয়ারা বাসা থেকে বের হয়ে গেলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে নিজের কক্ষের সামনে ডেকে নেয় সোহেল। পরে তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে দেহ বিকৃত করা হয়। পরে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
এদিকে রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সোহেলদের কক্ষের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। সন্দেহ হলে তারা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তখন স্বপ্না ঘটনাটি দেখে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনার দিনই বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
এর আগে, ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
Public Post News