ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাশাপাশি পাঁচ কবরে শায়িত স্বামী, স্ত্রী ও তিন সন্তান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 17, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728
পাশাপাশি পাঁচ কবরে শায়িত স্বামী, স্ত্রী ও তিন সন্তান

গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একে একে প্রাণ হারালেন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান। কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো পরিবারটি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শনিবার (১৬ মে) সকালে মা সালমা বেগম (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নী (৯) ও ছোট শিশু কথা’র (৭) মরদেহ গ্রামের বাড়ি বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া এলাকায় পৌঁছায়। এর আগে পরিবারের কর্তা কালাম মিয়াকে দাফন করা হয়েছিল। পরে তার কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের সমাহিত করা হয়।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালাম মিয়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। গত ১০ মে সকালে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসায়।

এ ঘটনায় পরিবারের সবাই গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দুর্ঘটনার দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কালাম মিয়া। পরে কয়েক দিনের ব্যবধানে মারা যায় শিশু কথা, ছেলে মুন্না, মেয়ে মুন্নী এবং সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মারা যান মা সালমা বেগম।

শনিবার সকালে চারটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় পরিবারের বাকি সদস্যদের।

জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাউফলের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

নিহত কালাম মিয়ার স্বজনরা জানান, বহু কষ্টে তিনি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজের বিষয়টি আগেই ভবনের দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছিল। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Public Post News

কমেন্ট বক্স