ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেরপুরে যুবক হত্যা: মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 21, 2026 ইং
সংগৃহিত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহিত
ad728
শেরপুরে যুবক হত্যা: মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেরপুরে আলামিন (২২) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে শুভ (১৯) ও সম্রাট (২০) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত আলামিন শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
গত ১৮ মে বিকেলে নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি ক্ষেত থেকে এক যুবকের মাথা বিচ্ছিন্ন ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরনের পোশাক দেখে ছেলে আলামিনকে শনাক্ত করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত মঙ্গলবার শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নেমে পিবিআই প্রথমে শুভকে এবং পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সহযোগী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে।

কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড?
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, আলামিনের পরিবারের সাথে শুভর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। মূলত আলামিনের ডিভোর্সী বোনের সাথে শুভর প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এই দূরত্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিবার কর্তৃক অপমানিত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে আলামিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে শুভ।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:

১৩ মে: পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভ তার বন্ধু শান্তর মোটরসাইকেলে করে আলামিনকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

সহযোগিতা: সেখানে পূর্ব থেকেই ওত পেতে থাকা সম্রাটের সহযোগিতায় প্রথমে আলামিনের গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তাকে অচেতন করা হয়।

হত্যা: এরপর ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

পিবিআইয়ের বক্তব্য:

জামালপুর জেলার পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, "মূল অভিযুক্ত শুভ ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শান্তও আদালতে নিজের জবানবন্দি প্রদান করেছে।"

নিহতের বাবার অভিযোগ ও ফাঁসির দাবি
এদিকে আলামিনের বাবা সাইফুল ইসলামের দাবি ভিন্ন। তিনি অভিযোগ করেন, শুভ দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এই ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তার ছেলে আলামিনের সাথে শুভর শত্রুতা তৈরি হয়।

তিনি আরও জানান, কেবল গলা কেটেই ক্ষান্ত হয়নি অপরাধীরা, পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে আলামিনের শরীরে এসিড ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। কাপড়ের অবশিষ্টাংশ দেখেই তিনি নিজের সন্তানকে চিনতে পারেন। এই নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Public Post News

কমেন্ট বক্স